• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

হামের ভয়াবহ বিস্তারে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা

newsline24 / ১০ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হামের ভয়াবহ বিস্তারে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা
হামের ভয়াবহ বিস্তারে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শিশুরা

একসময় হাম নির্মূলের পথে থাকা বাংলাদেশ এখন ভয়াবহ এক প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের। এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ৯৯৯টি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট ও হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হলেও হাম পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশেই চলছে।

টিকাদানে ঘাটতিই বড় কারণ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পেছনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে তৈরি হওয়া বড় ধরনের ঘাটতি অন্যতম কারণ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদান কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির পাশাপাশি টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যাও তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পায়নি। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, এই বয়সে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী হাম টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে আশপাশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সংসদে জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে তিনি জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও নিয়মিত টিকাদান সূচিতে বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এতে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগের সাফল্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে

হাম নিয়ন্ত্রণে গত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানের হার কিছুটা কমে যাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। ফলে হাম নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি সেই অগ্রগতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানের ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে এত বেশি হাম আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তার জানা নেই। একইভাবে এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক রোগীও দেখা যায়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করলেই হবে না। যেসব শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির তদারকি বাড়ানো, রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদানের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব তাই শুধু বর্তমান সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এটি গত এক দশকে অর্জিত টিকাদান ও রোগ নিয়ন্ত্রণের অগ্রগতি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একসময় হাম নির্মূলের পথে থাকা বাংলাদেশ এখন ভয়াবহ এক প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের। এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে ৯৯৯টি মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১০০টি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোতেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট ও হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হলেও হাম পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব বাংলাদেশেই চলছে।

টিকাদানে ঘাটতিই বড় কারণ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পেছনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে তৈরি হওয়া বড় ধরনের ঘাটতি অন্যতম কারণ। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদান কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। একই সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে পড়ে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির পাশাপাশি টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যাও তৈরি হয়েছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পায়নি। বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, এই বয়সে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী হাম টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে আশপাশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তাদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন সংসদে জানিয়েছেন, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে একটি টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং পরের বছর দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে বলে তিনি জানান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোও নিয়মিত টিকাদান সূচিতে বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এতে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণের ব্যাপকতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আগের সাফল্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে

হাম নিয়ন্ত্রণে গত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কোভিড-১৯ মহামারির সময় টিকাদানের হার কিছুটা কমে যাওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। ফলে হাম নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক দুই বছরে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি সেই অগ্রগতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমানের মতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানের ঘাটতির কারণেই বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগে এত বেশি হাম আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তার জানা নেই। একইভাবে এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক রোগীও দেখা যায়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের একটি বড় অংশই শিশু।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করলেই হবে না। যেসব শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির তদারকি বাড়ানো, রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকাতে টিকাদানের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব তাই শুধু বর্তমান সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এটি গত এক দশকে অর্জিত টিকাদান ও রোগ নিয়ন্ত্রণের অগ্রগতি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category