কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝালমুড়ি ও ফুচকা বিক্রির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া এলাকার যুবকদের সঙ্গে গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার যুবকদের মধ্যে প্রথম দফায় বিরোধ ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে বুধবার সকালে ওই ঘটনার জের ধরে দুই গ্রামের লোকজন আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয়পক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা ও টেঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভৈরব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে জুনায়েদ মিয়া (৩০), সাব্বির আহমেদ (২২), লাল মিয়া (১৫), কামরুল হোসেন (৩৫), ইমন মিয়া (২১), জুয়েল মিয়া (৩০) ও হৃদয় মিয়া (১৫) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কামরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওমর ফারুক (১৮), সজীব মিয়াসহ (১৯) আরও কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় বাঁশগাড়ী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আতাউর (৩৪), একই এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কবির হোসেন (৩৮), আদর্শপাড়া এলাকার মৃত আউয়াল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৮) এবং তার ভাই রকি মিয়া (২০)কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কালিকাপ্রসাদের আদর্শপাড়া গ্রামের আরমান মিয়া ঝালমুড়ি বিক্রি করতে বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে যান। সেখানে ফুচকা বিক্রেতা কবীর মিয়ার সঙ্গে বিক্রির জায়গা নির্ধারণ নিয়ে তার বাগবিতণ্ডা হয়। ঝালমুড়ি ও ফুচকা বিক্রির জন্য কে কোথায় বসবেন—এ নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধ পরে ব্যক্তিগত পর্যায় ছাড়িয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে।
আরমান মিয়ার অভিযোগ, বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী তাকে বাধা দেন। তার দাবি, ওই এলাকার কিছু মানুষ ঝালমুড়ি খাওয়ার পর নির্ধারিত দামের চেয়ে কম টাকা দিতেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে সেই বিরোধই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অন্যদিকে ফুচকা বিক্রেতা কবীর মিয়া আরমানের অভিযোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার ভাষ্য, বালুর মাঠে যথেষ্ট জায়গা রয়েছে এবং তিনি আরমানকে নির্দিষ্ট একটি জায়গা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু আরমান সেখানে না বসে অন্য জায়গায় গিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। সেখানেও বিক্রির টাকা কম দেওয়া নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উভয়পক্ষের পক্ষ থেকে পাওয়া অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে যাতে কোনো উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সামান্য ব্যবসায়িক বিরোধ কীভাবে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নিল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।