• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ, আসামির যাবজ্জীবন

newsline24 / ১০ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ, আসামির যাবজ্জীবন
পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ, আসামির যাবজ্জীবন

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশ সদস্যের বাড়িতে ডাকাতির পর তার স্ত্রীকে ধর্ষণের মামলায় পারভেজ প্রকাশ আবুল কালাম নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণ ও রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে পারভেজ ও তার সহযোগীরা হানা দেন। তারা সেখানে ডাকাতি করার পর ওই পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি চকরিয়া ছাড়িয়ে পুরো কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। পরে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মামলাটি আদালতে গড়ানোর পর দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত পারভেজকে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় মামলাটি ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে আগ্রহ তৈরি হয়। রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। তাদের প্রত্যাশা, আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষণ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় এ ধরনের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে আদালতে দণ্ড ঘোষণার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য, নথিপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ বিচারিকভাবে মূল্যায়নের পরই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

চকরিয়ার এই মামলায়ও দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেছেন। রায়কে কেন্দ্র করে বাদীপক্ষের সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশাও উঠে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category