সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় হতাহত, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এসব হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে ভবনটির একাংশে আগুন ধরে যায় এবং স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর স্থাপনায় এমন হামলার খবর জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
রাজধানী রিয়াদেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহনের ক্ষতি করে। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দফা হামলার দাবি করা হয়েছে। এসব হামলায় ১৩ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার ফ্লাইট স্থগিতের কথাও বলা হয়েছে। তবে হতাহত ও বিমান চলাচলসংক্রান্ত এসব তথ্যের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আশঙ্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জনসমক্ষে উপস্থিতি কমানো হয়েছে এবং তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদনে হামলার পেছনে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-সাবাহ তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানে বিদ্রোহীরা।
হুতি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ইয়েমেনে বিমান হামলা ও অবরোধ বন্ধ না হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হুতিরা জ্বালানি স্থাপনা ও প্রশাসনিক ভবনকে সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহার করছে এবং বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের সানা, হোদেইদাহ ও রাস ইসা বন্দরের আশপাশে হুতিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে তার প্রভাব ইয়েমেনের পাশাপাশি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল উৎপাদন, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাহত হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রতিবেদন প্রয়োজন।