নাটোরের বড়াইগ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন গত ২৪ বছরে নিজের অর্থায়নে ১১৩ জন হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। সর্বশেষ নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফছার আলীর মেয়ে আফসানা মিমির বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করেছেন তিনি। অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এই ব্যবসায়ী।
রুহুল আমিনের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো অসহায় পরিবারকে মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে না হয়। নিজের সামর্থ্য থেকে তিনি বিয়ের প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী, গয়নাপত্র, পোশাক ও খাবারের খরচ বহন করেন। অনেক ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; বিয়ের সাক্ষী কিংবা উকিল বাবা হিসেবেও ভূমিকা পালন করেন তিনি।
সম্প্রতি আফসানা মিমির বিয়ের আয়োজনেও পাশে দাঁড়ান রুহুল আমিন। নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ভ্যানচালক আফছার আলীর পরিবারের পক্ষে বিয়ের যাবতীয় ব্যয় বহন করা কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এই ব্যবসায়ী। তাঁর সহযোগিতায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
রুহুল আমিনের সহায়তায় বিয়ে করা এক ব্যক্তি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান, এমন একটি বিয়ের বর হতে পেরে। রুহুল আমিন আমার বিয়ের উকিল বাবা হয়েছেন। আমার স্ত্রীকে আমার হাতে সঁপে দিয়েছেন। আমাদের জন্য দোয়া করেছেন।’
রুহুল আমিন জানান, সমাজের হতদরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে সম্পন্ন করে দেওয়া তাঁর শখ। অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি নিজের এই ইচ্ছা পূরণ করেন। তাঁর কাছে এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অংশ নেওয়ার সুযোগ।
গত ২৪ বছরে ১১৩ জন মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে তাঁর এই উদ্যোগের ব্যাপ্তি স্পষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে এমন কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তবু অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ থেকেই তিনি কাজটি করে যাচ্ছেন।
রুহুল আমিনের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে নিয়ে সংকটে পড়ে, তাদের জন্য এমন সহযোগিতা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। তাঁর উদ্যোগ সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।