নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চুরির সন্দেহে মো. কবির হোসেন (৩৫) নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। জড়িত সন্দেহে আরও চারজনসহ মোট আটজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. আলাউদ্দিন মুন্সী (২৮), ফারুক উদ্দিন শুভ (২৪), মো. হোসেন (৩৪) ও মো. তারেক (২৩)। পুলিশ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার একটি ওয়ার্কশপ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে কবিরকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে নোয়ান্নই ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়ার কথা বলেও তাঁকে মারধর করা হয়।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা তাঁকে মারধরের পর দেবীপুর গ্রামে আজু মেম্বারের বাড়ির সামনের সড়কে মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে আহত অবস্থায় কবিরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় নিহতের মা কমলা বেগম বাদী হয়ে সুধারাম থানায় মামলা করেছেন। কবিরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু, সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে এভাবে মারধর করার অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনাক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।