ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার গুঞ্জন ঘিরে দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পতিত রাজনৈতিক শক্তি, ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী, পলাতক অপরাধী কিংবা গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরাও শুনছি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসতে চান। তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে আমাদের প্রতিবেশী দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।”
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে গুঞ্জন এবং এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ থেকে এ ধরনের অপপ্রয়াস শুরু থেকেই চালানো হচ্ছে। এসব তৎপরতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে বলে মনে করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, এ ধরনের পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে শত শত নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনো অপতৎপরতা দেশের মাটিতে চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও জড়িত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে সেসব অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের সর্বশেষ অবস্থান বা সম্ভাব্য প্রত্যর্পণের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রত্যর্পণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চুক্তি, দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমত, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয়ত, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক।
তবে শেখ হাসিনা ঠিক কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারেন, ডিসেম্বরে তাঁর ফেরার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রয়েছে কি না কিংবা এ নিয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আছে কি না—এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন কোনো তথ্য দেননি। ফলে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অবস্থান—দুটি বিষয়ই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হলে তা মোকাবিলা করা হবে।