গার্মেন্টস শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ওই ৩৩ জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিচয় ও শ্রমিক আন্দোলনের পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতার ব্যক্তিদের। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংস পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল, কোথায় বা কীভাবে তারা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং অভিযানে কোনো আলামত উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং কর্মকাণ্ডের ধরন খতিয়ে দেখা হবে।
রাজধানীতে শ্রমিক অসন্তোষ কিংবা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো পক্ষ সুযোগ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং গ্রেফতার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর অধিকার যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।