রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গভীর রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে। উড়ালসেতু থেকে দুর্বৃত্তরা ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে বিস্ফোরণে কেউ হতাহত হননি।
বিমানবন্দর এলাকায় এ ঘটনার পাশাপাশি রাজধানীর আরও চারটি স্থানে ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে পাঁচটি স্থানে আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। পরপর এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচত্বরে বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, উড়ালসেতু থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্বৃত্তরা উড়ালসেতু থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দরের গোলচত্বরের ওপর দিয়ে যাওয়া উড়ালসেতু থেকে ককটেলগুলো নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের পর দুর্বৃত্তরা দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় বা অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর আরও যেসব স্থানে বিস্ফোরণ
শুধু বিমানবন্দর এলাকাতেই নয়, একই রাতে রাজধানীর আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত খিলগাঁও, আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর ও মিরপুরের কালশী এলাকায় মোট আটটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে আদাবর থানার সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ থানার আইবি গেটের সামনে পুলিশের একটি ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। একই এলাকায় রাত ১২টা ১ মিনিটের দিকে জুলাই চত্বরের পাশেও আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, মিরপুরের কালশী মোড়েও মোটরসাইকেলে করে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। নতুন বাজার এলাকায় যাত্রী নামানোর কিছু সময় পর বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। এসব পৃথক ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ করছে। মিরপুরের কালশী এলাকার একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে একই রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনার পেছনে একই ব্যক্তি বা কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।