স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে যুগোপযোগী সাইবার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ফেসবুকসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গালিগালাজ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও নতুন আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে যাতে সমাজে অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন কোনো আইন যেন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, এসব বিষয় সামনে রেখে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী সাইবার আইন তৈরির বিষয়ে কাজ চলছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন অনলাইনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করা হবে, অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারও সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা থাকবে।
অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজের প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তার অপব্যবহার যাতে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট না করে, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তবে নতুন আইন করার পাশাপাশি সেটির অপব্যবহার ঠেকানোর বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো আইন যেন এমনভাবে প্রয়োগ না হয়, যাতে সেটি সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশ বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কোনো খবর বা বক্তব্য ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নানা ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নতুন সাইবার আইন প্রণয়নের আলোচনায় এসব বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য শুধু অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং একই সঙ্গে নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল পরিসরে দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হয়। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের কাজের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে।
সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন সাইবার আইনে অনলাইনে গালিগালাজ, ভুয়া তথ্য ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়গুলো কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে আইনটির চূড়ান্ত কাঠামো, কোন ধরনের অনলাইন আচরণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর প্রয়োগ কীভাবে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত বিধান এখনও সামনে আসেনি।