মহামান্য বা মাননীয় নয়: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
newsline24
/ ১০
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Share
মহামান্য বা মাননীয় নয় প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রচিন্তায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সরকারি দাপ্তরিক নথিতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ধরনের বিশেষণ ব্যবহারের সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগকে প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে সরকারি কাজ ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মূল লেখায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত মর্যাদা বা আড়ম্বরের পরিবর্তে জনগণের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে সচিবালয়ে উপস্থিত হওয়া, অনাড়ম্বর জীবনযাপন, সরকারি ব্যয় কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলোকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে আরও একটি প্রচলিত রীতি বদলের আহ্বান জানানো হয়েছে—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার সামাজিক চাপ। লেখকের দাবি, এটি কোনো সাংবিধানিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়। বরং ঔপনিবেশিক আমলের প্রভুসুলভ প্রশাসনিক মানসিকতার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
মূল লেখায় নরসিংদীতে এক নারী এসি ল্যান্ডকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার একটি ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ‘স্যার’ বা ‘হুজুর’ না বললে সেবা পেতে হয়রানির অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
লেখকের প্রস্তাব, নাগরিকদের কর্মকর্তাদের পদবি ধরে সম্মানজনকভাবে সম্বোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। যেমন—ইউএনও সাহেব, ওসি সাহেব, এসপি সাহেব বা সচিব সাহেব। এতে সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিকের সম্পর্ক আরও সমতাভিত্তিক হতে পারে।
এর পাশাপাশি দুর্নীতি, ঘুষ, ফাইল আটকে রাখা, হয়রানি এবং তদবিরনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেখকের মতে, শুধু সম্বোধন বা প্রচারণার ধরন বদল নয়, জনগণের কাছে সরকারি সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই হবে এই সংস্কারের প্রকৃত সাফল্য।