রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিএনপির এক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালিয়ে যেতে তাকে উল্টো চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ওই নেতা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মান্নান হোসেন শাহীন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহীন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। সে সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মহল্লায় পাহারার উদ্যোগ নেন। এলাকাবাসীকে এ কাজে সম্পৃক্ত করতে মাইকিংও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
শাহীন বলেন, ওই উদ্যোগের জের ধরে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ২ নম্বর রোডের শাপলা ভবনের নিচতলায় বাড়ি মালিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে তার ওপর হামলা হয়। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪২টি কোপ দেয় এবং তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ৩৭ দিন আইসিইউতে থাকতে হয় বলে জানান শাহীন। সব মিলিয়ে প্রায় সাত মাস হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাসায় ফেরেন। এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে না পারলেও রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থেকেই আবার মাঠে সক্রিয় হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে মোহাম্মদপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নতুন করে হুমকি আসছে বলেও অভিযোগ করেন শাহীন। তার দাবি, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িতদের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে—এমন আশঙ্কা থেকেই একটি মহল তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কোথাও চাঁদা নেওয়ার খবর পেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদ উদ্যানের ৬ নম্বর রোডে সুয়ারেজ লাইনের কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির খবর পেয়ে সেখানে যাওয়ার দাবি করেন তিনি। শাহীন বলেন, সেখানে মো. নান্নু, নুরুল ইসলাম, হান্নান ও সেন্টুসহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ছিলেন। চাঁদা দেওয়ার বিরোধিতা করায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা জিসান আহমেদ হামলা ঠেকাতে গেলে তার ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানান শাহীন। ঘটনার পর এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তিনি।
শাহীন আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে এখন উল্টো চাঁদাবাজ হিসেবে তুলে ধরে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এর আগে প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন। আবারও হামলার আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার আইনগত অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।