• রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

ফারাক্কার সব গেট খোলা, গঙ্গায় বাড়ছে পানির চাপ

newsline24 / ১৩ Time View
Update : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ফারাক্কার সব গেট খোলা, গঙ্গায় বাড়ছে পানির চাপ
ফারাক্কার সব গেট খোলা, গঙ্গায় বাড়ছে পানির চাপ

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ফারাক্কা ব্যারেজের ১০৯টি গেটের সবকটি খুলে দিয়েছে ভারত। ব্যারেজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ার কারণে গঙ্গার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি এবং নদীভাঙনের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

ফারাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আর ডি দেশপান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যারেজ দিয়ে প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। এর মধ্যে ফিডার ক্যানেল দিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি। বিপুল এই পানিপ্রবাহের প্রভাব পড়ছে ব্যারেজের ভাটির অংশে গঙ্গার পানির স্তরেও।

সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য বলছে, ফারাক্কার ভাটিতে গঙ্গার পানির স্তর ২৩ দশমিক ৭৫ মিটারে পৌঁছেছে। ওই এলাকায় বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ২২ দশমিক ২৫ মিটার। অর্থাৎ বর্তমানে পানি বিপৎসীমার প্রায় ১ দশমিক ৫০ মিটার ওপরে রয়েছে। পানির এই উচ্চতা নদীতীরবর্তী বসতিগুলোর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তবে আগামী দুই দিনে পানির স্তর কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু আপাতত পানি বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন—দুই দিক থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, গঙ্গার পানি আরও বাড়লে বেনিয়াগ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে নদীর একেবারে কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বেশি। পানি বাড়ার পাশাপাশি নদীর স্রোত তীব্র হলে তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এরই মধ্যে বুধবার সকাল থেকে মুর্শিদাবাদের তারানগর এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। লালগোলা ও রঘুনাথগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী তারানগর এবং রাধাকৃষ্ণপুর এলাকায় গত দুই বছর ধরেই গঙ্গার ভাঙন চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ভাঙনে এরই মধ্যে বহু ঘরবাড়ি, জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মানুষের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। একদিকে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, অন্যদিকে ভাঙন শুরু হওয়ায় বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নিয়েই এখন নজর রয়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।

ফারাক্কার গেটগুলো খোলা এবং বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়ার পর গঙ্গার ভাটির দিকে পানির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী দুই দিনে পানির স্তর কমে এলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্লাবন ও নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category