বগুড়ায় ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম (৩৭) নামের এক ফল ব্যবসায়ীকে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. নাজিম উদ্দিন (৩৭) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর আসামি মো. স্বপন পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাজিমকে বগুড়ার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম নাজিমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, নাজিম ও মামলার অপর আসামি স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। সেই অর্থ থেকে তিনি তাঁর পরিচিত স্বপনকে দুই লাখ টাকা এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন।
পরবর্তী সময়ে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্য থেকেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট ওয়াহেদকে বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সেখানে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ওয়াহেদের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ওয়াহেদের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ একটি বস্তায় ভরে মালগ্রাম এলাকার একটি ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর অভিযুক্ত দুজনই নিজেদের কর্মস্থলের চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এদিকে ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১২ আগস্ট, মালগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। পুলিশ বলছে, ওই বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে নাজিম ও স্বপনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর অভিযান চালিয়ে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার নাজিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে নাজিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক স্বপনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।