ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে চিত্রনায়িকা পরীমণির অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে সাংবাদিক রাজুর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় তারা রাজুর পাশে রয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে তিনি রাজুর পেশাগত দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিকতা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পেছনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণে একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আলোচিত একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তিনি জানান, একদিন গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে নুরুল হক নুরকে আদালতে হাজির করার জন্য আনা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশই আদালত ভবনের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। তবে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজু ঘটনাস্থলে থেকে নুরুল হক নুরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ যখন নুরুল হক নুরকে লিফটে তুলছিল, তখন রাজু তাকে প্রশ্ন করেন, ‘নুর ভাই, আন্দোলন তো বন্ধ হয়ে গেছে, আপনার কোনো বার্তা আছে?’ জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, ‘শেখ হাসিনার ৯০ শতাংশ পতন হয়ে গেছে, ১০ শতাংশ ধাক্কা দাও।’
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজুর করা সেই প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও দৈনিক সমকালের ফেসবুক পেজে প্রকাশের পরপরই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও ভিডিওটি প্রচারিত হয়। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে বক্তব্যটি সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সাহস ও উদ্দীপনা তৈরি করেছিল। ওই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বার্তা।
তবে বক্তব্যটি আলোচনায় এলেও এর পেছনে সাংবাদিক রাজুর ভূমিকার কথা অনেকেই জানেন না বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ওই মুহূর্তের প্রশ্নটি করার মধ্য দিয়ে রাজু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। রাজুকে একজন অমায়িক, ভদ্র ও পরিপাটি মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জানান, তার আচরণ, কথাবার্তা ও পেশাগত ব্যবহারে সবসময়ই সৌজন্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
রাজুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গও পোস্টে তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, রাজুর এক হাতে জন্মগত ত্রুটি রয়েছে। তবে এই সীমাবদ্ধতা তার পেশাগত কাজের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বরং অনেক স্বাভাবিক শারীরিক সক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের তুলনায় তার ক্যামেরা পরিচালনা ও ভিডিও সম্পাদনার দক্ষতা প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের মতে, একজন সাংবাদিকের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও কাজের মানের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগতভাবে অপদস্থ করা কিংবা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত প্রাঙ্গণে পরীমণির বিরুদ্ধে রাজুকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে সাংবাদিকের মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করেন তিনি। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে রাজুর সাংবাদিকতা জীবনের সাফল্য কামনা করেন রাশেদ খাঁন।
পোস্টের শেষাংশে সাংবাদিক রাজুর প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, ‘আমরা রাজুর সঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ।’
ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সম্মান এবং জনপরিসরে শালীন আচরণের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।