সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে মানাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে আব্দুল মাজেদ পিকলু (২৪) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুল মাজেদ পিকলু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যনওদাপাড়া এলাকার বন বিভাগকর্মী নুরুল ইসলাম বাবুর ছেলে। তিনি রাজশাহীর মোহনপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পিকলুসহ মোট ১০ জন পর্যটক সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা থেকে একটি নৌকা ভাড়া করে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সকাল ১০টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও বাজারসংলগ্ন মানাই নদীতে নৌকাটি নোঙর করা হয়।
এ সময় দলের কয়েকজন সদস্য লামাগাঁও বাজারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে যান। অন্য কয়েকজন নৌকার কাছে থেকেই নদীতে গোসল করতে নামেন। পিকলুও তাদের সঙ্গে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি নৌকা থেকে নদীতে লাফ দেওয়ার পর আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি।
ঘটনার পর তার বন্ধুরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে উদ্ধার তৎপরতা। পরে দুপুর ১টার দিকে পানির নিচ থেকে পিকলুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মোরাদ বলেন, পর্যটকেরা টাঙ্গুয়ার হাওরে পৌঁছানোর আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসনাত চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করে। মরদেহটি নৌকাসহ তাহিরপুর থানায় নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় জলাভূমি ও পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা মৌসুমে এর বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা নৌকায় করে সেখানে যান। এ সময় নদী, হাওর ও নৌযানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পানির গভীরতা এবং স্রোতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে নৌকা থেকে অপরিচিত বা গভীর পানিতে ঝাঁপ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পিকলুর এই দুর্ঘটনা পর্যটন মৌসুমে পানিতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনেছে।