রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রবাসী যুবক লস্কর হৃদয়কে (২৫) কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন শান্ত (২৫) ও বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল (২৫)। পুলিশের দাবি, হৃদয়ের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক রাখাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুর লিমিটেড এলাকায় হৃদয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শান্ত ও বিল্লালকে গ্রেপ্তার করে।
এডিসি জুয়েল রানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন হৃদয়। পরবর্তী সময়ে ওই নারী কিশোর গ্যাং নেতা মুন্না ওরফে ক্যাপ্টেন মুন্নার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি হৃদয়কে ছেড়ে মুন্নার সঙ্গে চলে গিয়ে তাঁকে বিয়ে করেন।
এর প্রায় তিন বছর পর হৃদয় সৌদি আরবে চলে যান। বিদেশে অবস্থানকালে তাঁর সঙ্গে সাবেক স্ত্রীর আবার গোপনে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরি হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
বিষয়টি জানতে পেরে মুন্না হৃদয়কে ফোন করে সতর্ক করেন এবং তাঁর সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে বলেন বলে জানিয়েছেন এডিসি জুয়েল রানা। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হৃদয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বলে পুলিশের দাবি।
সম্প্রতি ছুটিতে দেশে ফেরেন হৃদয়। তাঁর দেশে ফেরার খবর পাওয়ার পর তাঁকে ডেকে নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তাঁকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, হামলার নেপথ্যে মূল বিরোধ ছিল হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রীর যোগাযোগ। তবে হামলার ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হবে।
হৃদয়ের বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় যে মামলা করেছেন, সেখানে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মুন্না ওরফে ক্যাপ্টেন মুন্না, রাসেল ওরফে আন্ডা রাসেল, বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল এবং সাইফুল ওরফে ঘাড়কাটা সাইফুল। এর বাইরে কয়েকজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শান্ত ও বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততার ধরন এবং আগে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
মোহাম্মদপুরে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় কিশোর ও তরুণদের সংঘবদ্ধভাবে ব্যবহারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য উদ্বেগের। এ ঘটনায়ও পুলিশ বলছে, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় বর্তমানে মামলা তদন্তাধীন। গ্রেপ্তার দুজনের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে হামলার আগে হৃদয়কে কীভাবে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিল, সেসব বিষয়ও তদন্তের অংশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হৃদয় ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর যোগাযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। সেই বিরোধ শেষ পর্যন্ত সহিংস হামলায় গড়ায়। মামলায় নাম থাকা মুন্নাসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্য ও হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।