সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক নতুন স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ স্কিমের আইনগত ভিত্তি তৈরির জন্য খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ স্কিম চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, সর্বজনীন পেনশনের ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন স্কিমের কাঠামো, পরিচালনপদ্ধতি, বিনিয়োগব্যবস্থা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকেরা এ কাজে যুক্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে স্কিমটির আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায় নির্ধারণে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।
নতুন স্কিম চালু হলে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির ভিত্তিতে পেনশন তহবিল পরিচালনার পৃথক কাঠামো তৈরি হবে। তবে আইন প্রণয়ন, বিনিয়োগনীতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিশ্লেষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না।
শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের পাশাপাশি বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থাতেও কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোনো পেনশনার মারা গেলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এ বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বজনীন পেনশনের আওতা বাড়াতে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধা পান না, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশগামী কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো ও নিবন্ধনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এটি কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়া, স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করা এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে পেনশন সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলোও পর্যালোচনায় রয়েছে।
নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।
২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পর বর্তমানে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ ও ‘প্রবাস’—এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর শুরু পর্যন্ত এসব স্কিমে নিবন্ধিত গ্রাহক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর ক্ষেত্রে এখন মূল অপেক্ষা আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পর নতুন স্কিম বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।