• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার চেষ্টা, অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ছুটি ৭০ কারখানায় ২৩ বছরের অধ্যায়ের ইতি, পর্তুগালের জার্সিকে বিদায় রোনালদোর শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০৪ হিসাব জব্দ ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার কুর্মিটোলায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলা, আহত কনস্টেবল এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ আদালত চত্বরে উত্তেজনা, মেজাজ হারিয়ে গালিগালাজ পরীমণির পরোয়ানা ছাড়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার ঠেকাতে আইন করার চিন্তা সরকারের

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ

newsline24 / ১৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ
এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মাতুয়াইলে শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা আগামী ২ ও ৩ ডিসেম্বর বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দুই দিনব্যাপী এ পরীক্ষা শেষে ২৩ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থী এক বা দুই বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের সামনে ফল উন্নয়ন ও উত্তীর্ণ হওয়ার আরেকটি সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা গেছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত দুই দশকের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার। গত বছর এই হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। বাকি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এবারের ফলাফল হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলেও ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। এ বছর ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী পাস করেছেন। তাঁদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারের দিক থেকে ছাত্রীরা ছাত্রদের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।

জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এবার মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন।

গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এবার সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। অর্থাৎ শুধু পাসের হার নয়, ভালো ফল অর্জনের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সাফল্য কমেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। এ বছর দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। শিক্ষাব্যবস্থার মান, পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে এ ফলাফল নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

পরীক্ষার সময়সূচি ও ফলাফলের চিত্র

বিষয় তথ্য
বিশেষ পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর
বিশেষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ২ ও ৩ ডিসেম্বর
বিশেষ পরীক্ষার ফল প্রকাশ ২৩ ডিসেম্বর
পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১২,৪০,৭৯৮ জন
মোট উত্তীর্ণ ৬,৪৬,৬৮৫ জন
মোট অনুত্তীর্ণ ৫,৯৪,১১৩ জন
গড় পাসের হার ৫২.১২%
গত বছরের পাসের হার ৫৮.৮৩%
পাসের হার কমেছে ৬.৭১ শতাংশ পয়েন্ট
মোট জিপিএ-৫ ৪০,০৮৪ জন
গত বছরের জিপিএ-৫ ৬৯,০৯৭ জন
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ২৯৩টি

উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

এবারের ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই বড় পতন হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বরের বিশেষ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পরীক্ষার প্রস্তুতি, অংশগ্রহণের নিয়ম এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category