• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দুই মাসের মধ্যেই শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার চেষ্টা, অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ছুটি ৭০ কারখানায় ২৩ বছরের অধ্যায়ের ইতি, পর্তুগালের জার্সিকে বিদায় রোনালদোর শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ, সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ ২০৪ হিসাব জব্দ ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার কুর্মিটোলায় পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলা, আহত কনস্টেবল এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের বিশেষ পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর, ফল ২৩ তারিখ আদালত চত্বরে উত্তেজনা, মেজাজ হারিয়ে গালিগালাজ পরীমণির পরোয়ানা ছাড়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার ঠেকাতে আইন করার চিন্তা সরকারের

২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার

newsline24 / ৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার
২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় সরকার

২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে নতুন জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু অর্থনীতির আকার বাড়ালেই হবে না, এর ভিত্তিও হতে হবে শক্তিশালী ও টেকসই। এজন্য রপ্তানি খাতের পরিধি বাড়ানো, নতুন বাজার সৃষ্টি, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কিংবা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে আমদানি-রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের বন্দর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, মোংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশের সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর উপস্থিতিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইনভেস্ট বাংলাদেশ) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক, বন্দর ও লজিস্টিকস খাতে উন্নয়ন হলে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

মোংলা বন্দরের উন্নয়নও এ বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতে উন্নত বন্দর অবকাঠামো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের ঘোষিত এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রগতির ওপর। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়টিও এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category