বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কখনো নিজেদের কর্মস্থল, শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিংবা জীবিকার ক্ষতি করতে পারেন না। কারণ, এসব কারখানার সঙ্গে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে। অথচ একটি মহল শ্রমিকদের দাবির বিষয়টিকে সামনে রেখে বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলো দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে অসংখ্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের জীবিকা এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, এগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, দেশের রপ্তানি আয় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বক্তব্যে গত ১৫-১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, একটি মহল দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকেও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। বরং মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং দেশের অর্থ-সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, তারা এখন সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। দেশের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে যেসব দাবি রয়েছে, সে সম্পর্কে সরকার অবগত। তাদের দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা ও পর্যালোচনার জন্য ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিক ভাই-বোনেরা আগের তুলনায় ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন ও কর্মপরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শ্রমিকদের দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া যেন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক থাকে, সেই বিষয়টি শিল্প খাতের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তার বক্তব্যে উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার একদিকে শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে, অন্যদিকে শিল্পকারখানায় ভাঙচুর ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মোকাবিলায় গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এখন শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার বিষয় হয়ে উঠেছে।