জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং বিদেশি কূটনীতিকেরা উপস্থিত রয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) প্রায় তিন হাজার ক্যাডেট অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্যও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠনের বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি বৃহৎ আয়োজনের রূপ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত রয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তরুণ ক্যাডেট ও স্কাউট সদস্যদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দিবসের আয়োজনে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বও নিশ্চিত হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
দিবসটি ঘিরে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজধানীতে আরও কয়েকটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও হেঁটে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সকালে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আর্মি স্টেডিয়ামের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ এবং বিকেলে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ফলে দিবসটি ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে।
আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানটি সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতে সামরিক নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে বিএনসিসি ও স্কাউটসের মোট সাড়ে তিন হাজার সদস্যের অংশগ্রহণ এবারের আয়োজনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।