ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের কয়েক বছর পর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণার পর ‘গুপ্তপাড়ায় আগুন লেগেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা এবং এর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন আবু হানিফ।
আবু হানিফের দাবি, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের প্রায় সাত বছর পাঁচ মাস পর রাশেদ খাঁনকে জিএস পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ঘোষিত জিএস গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, রাশেদ খাঁনকে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণার পর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে রাশেদ খাঁনকে নিয়ে সমালোচনা ও নানা ধরনের পোস্ট দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের পোস্টে আবু হানিফ এসব অ্যাকাউন্টকে ‘শিবির-গুপ্ত-বট আইডি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব অ্যাকাউন্টের পোস্ট ও মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা এবং আগের জিএসের পদ বাতিলের বিষয়টি নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট।
আবু হানিফ তাঁর বক্তব্যে আরও রাজনৈতিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, যারা বর্তমানে নিজেদের ভিন্ন পরিচয়ে প্রকাশ করছেন, তাদের কেউ কেউ অতীতে আওয়ামী লীগের সময় ছাত্রলীগের মধ্যে ‘গুপ্ত’ হিসেবে অবস্থান করতেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি তাঁর পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
রাশেদ খাঁনকে জিএস পদে বিজয়ী ঘোষণা করার বিষয়টি মূলত ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের ফলের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই নির্বাচনে ভিপি পদে নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে গোলাম রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ডাকসুর সেই নির্বাচন নিয়ে আবারও আলোচনা সামনে আসে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে রাশেদ খাঁনের জিএস পদ পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সেই প্রতিক্রিয়ারই একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
তবে তাঁর পোস্টে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই এসব দাবির মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।