• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

newsline24 / ৬২ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকাগামী লেনে এই যানজটের বিস্তার ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকাল আটটার দিকে আশরিয়ারচরে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়। শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।

দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এরই মধ্যে যানজটে আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

মারা যাওয়া রোগীর নাম আমিরুন্নেছা। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বজন তারেক আল হাসান জানান, গতকাল শুক্রবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত আটটার দিকে আমিরুন্নেছাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার দিকে নেওয়া হচ্ছিল। রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছায়। এরপর তীব্র যানজটে পড়ে সেটি আর সামনে এগোতে পারেনি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর রাত তিনটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমিরুন্নেছার মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ একজন রোগীকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে যানজটে আটকে পড়ার এই ঘটনা মহাসড়কের যান চলাচল পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই সামনে এনেছে।

শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে খুলনার বাগেরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া মুজাহিদ পরিবহনের একাধিক যাত্রী জানান, তাঁরা শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে রওনা হন। রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে শনিবার সকাল আটটার দিকে মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাউদকান্দির আমিরাবাদে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

ঢাকা থেকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জগামী সুরমা পরিবহনের চালক রিপন মিয়া, বয়স ৫৫ বছর, বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এ কারণে মহাসড়কের যান চলাচল ও সংস্কারকাজের বিষয়ে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজর থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রচণ্ড গরমে বাসের ভেতরে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা অস্বস্তিতে ছটফট করছেন।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচরে ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর যানজটের সূত্রপাত হয়। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, শনিবার সকালেও যানজট অব্যাহত ছিল। যানজটে আটকে থাকা চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। ফলে ব্যস্ত এই সড়কের একটি অংশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব দ্রুতই বিস্তৃত এলাকায় পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্কারকাজের পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার বাস এবং পণ্যবাহী যান যাতে দীর্ঘ সময় আটকে না থাকে, সে বিষয়ে বাড়তি নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ যানজটে শুধু যাত্রীদের সময় নষ্ট হচ্ছে না, তীব্র গরমে তাঁদের শারীরিক দুর্ভোগও বাড়ছে। আমিরুন্নেছার মৃত্যুর ঘটনা সেই সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category