রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে দোহার উপজেলার কালেমা চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন উপজেলার কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অংশ নিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে অপদস্থ করা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা এবং তাঁর কাজের সরঞ্জাম ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্যও উদ্বেগজনক।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজু জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও পেশাদার একজন সংবাদকর্মী। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার ঘটনা নিন্দনীয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে যদি এভাবে অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে।
তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমনির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন বক্তারা।
মানববন্ধনে দোহার উপজেলার সাংবাদিকেরা বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সংবাদকর্মী যেন হামলা, হুমকি কিংবা অপমানের শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনার বিচার না হলে সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।
তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজুকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সমকালের দোহার উপজেলা প্রতিনিধি গোলাম টিপু, দৈনিক কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট ও এশিয়া বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কাজী জোবায়ের আহমেদ, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার শামীম আরমান, কালবেলার সাংবাদিক নুরুল ইসলাম তানিম, দোহার বার্তা২৪ ও দৈনিক সকালের খবরের তানজিম ইসলাম, কালের বার্তার শাহাদাৎ হোসেন, প্রিয়বাংলার সাংবাদিক বিল্লাল, ডিএন টাইমসের ফাহিম, দোহার ইনসাইটের তামিম এবং ইছামতীর সাংবাদিক মোস্তফা কুদ্দুসসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। রবিউল ইসলাম রাজুকে হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মধ্য দিয়েই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব।