তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল। শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নুরুল হক নূর বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় ছিল। শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এ বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের শুধু মজুরি বাড়ালেই হবে না, তাদের সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকার পাওয়ার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয় সামনে রেখেই সরকার শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকরা তাদের দাবি জানিয়েছেন এবং সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ কারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগের প্রতি আস্থা রাখার কারণেই শ্রমিকদের আন্দোলন বন্ধ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতের উৎপাদন, রপ্তানি এবং কর্মসংস্থানের বড় একটি অংশ শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক নূর। দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে পরাজিত ব্যক্তিদের দেশে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে জনগণ সরকারের পাশে থাকলে এ ধরনের অপশক্তির অপতৎপরতা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নুরুল হক নূর বলেন, জনগণের আন্দোলনে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইলে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শক্তির অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন দেশের মানুষ। এ সময়ে অনেককে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেকে দেশে থেকেও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চাকরি করতে পারেননি। রাজনৈতিক কারণে নানা ধরনের বাধা ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে অনেককে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দলের ছিল না। রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। তাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—দুটি বিষয়েই বক্তব্য দেন নুরুল হক নূর। তার মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকারের উদ্যোগ যেমন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন, তেমনি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের সম্মিলিত অবস্থানও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।