নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ বছরে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া ১ লাখ ২২ হাজার ৪২২টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ১৩৬টি। অর্থাৎ নিষ্পত্তির হার প্রায় ১১ শতাংশ। নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর ৫৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ আসামি খালাস পেয়েছেন। এতে মাদক মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে শুধু সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ১৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাফ নদীতে একক অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা, যা বিজিবির ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ।
মাদক নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনের দুর্বলতা দূর করা, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র্যাব, কাস্টমস ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।
এ ছাড়া মাদক পাচার রোধে স্থায়ী যৌথ গোয়েন্দা কেন্দ্র, অনলাইন মাদক কেনাবেচা বন্ধে বিশেষায়িত সাইবার মনিটরিং ইউনিট গঠন, মামলার তদন্তের মান উন্নয়ন এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমানোর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনঃএকীভূত করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের বক্তব্য, সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার প্রতিরোধ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা গ্রহণযোগ্য নয়। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।