২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। আট দিনের নির্ধারিত সময়ে মোট ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী তাদের ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টি উত্তরপত্র পুনরায় যাচাইয়ের আবেদন করেছেন। এসব উত্তরপত্র পর্যালোচনা শেষে আগামী ২৩ নভেম্বর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ, আবেদন গ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ উত্তরপত্র যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে। বিপুলসংখ্যক আবেদনের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ করা শিক্ষা বোর্ডগুলোর জন্য বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গণমাধ্যমকে আবেদনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথমে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় নির্ধারণ করা হলেও সার্ভারজনিত সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় আবেদনের সময়সীমা এক দিন বাড়িয়ে ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত করা হয়।
নির্ধারিত বর্ধিত সময় শেষ হওয়ার পর পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২০৯ জন শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র যাচাইয়ের আবেদন করায় মোট আবেদন করা খাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩টিতে।
পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত উত্তরপত্রের নম্বর গণনায় কোনো ভুল হয়েছে কি না, নম্বর যোগ করতে বাদ পড়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর যথাযথভাবে উত্তরপত্র ও ফলাফল বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, সেসব বিষয় যাচাই করা হয়। তবে এটি নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়নের প্রক্রিয়া নয়। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর প্রতিটি উত্তরের মান নতুন করে নির্ধারণ না করে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নম্বরসংক্রান্ত অসংগতি খতিয়ে দেখা হয়।
বিশেষ করে প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়া, কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া কিংবা ফলাফলে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে মনে করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে থাকেন। অনেকের কাছে এই ফলাফল পরবর্তী শিক্ষাজীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নম্বর পরিবর্তন হলে সামগ্রিক ফলাফল বা জিপিএতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ২৩ নভেম্বরের ফলাফল নিয়ে। নির্ধারিত তারিখে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলে যেসব উত্তরপত্রে নম্বরসংক্রান্ত ভুল বা অসংগতি পাওয়া যাবে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ফল সংশোধনের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সব আবেদনের বিপরীতে ফল পরিবর্তন হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। যাচাইয়ে কোনো ভুল পাওয়া না গেলে আগের ফলাফলই বহাল থাকবে। তাই আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে প্রায় ১১ লাখ উত্তরপত্র যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করা এখন ১১টি শিক্ষা বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ২৩ নভেম্বরের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবক।