• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
পরাজিত শক্তি ফের ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে জিয়া ও খালেদার সমাধিতে শ্রদ্ধা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি দাওয়াতের কথা বলে বাড়িতে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ইমামের বিরুদ্ধে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা পথে জামায়াত-এনসিপি, জোটে কী বার্তা? গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল, মিলবে মাসিক মোবাইল ভাতাও জীবননগর সীমান্তে বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশি যুবক আটক টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথবাহিনীর অভিযান, বাড়ছে আতঙ্ক জামালপুরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দম্পতি ও শিশুসহ ৪ জনের ধামরাইয়ে দুই রাতে দুই বাসে আগুন, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

newsline24 / ১১ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক প্রতীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের ঐতিহাসিক প্রতীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই দিন সিপাহী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে দেশের বিরুদ্ধে চলা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিলেন। তাঁর মতে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ম্যাগনা কার্টার মতোই গুরুত্বপূর্ণ, যা জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের চেতনা ধারণ করে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। তাঁকে বন্দি করে দেশের স্বার্থবিরোধী যে রাজনৈতিক ও সামরিক চক্রান্ত শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করার ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। এমন এক সংকটময় সময়ে সিপাহী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা জাতীয় জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এ কারণেই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনা কার্টা’ হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, এই দিনের মূল শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্য ও দেশের স্বাধীন পরিচয়কে সমুন্নত রাখা। ম্যাগনা কার্টা ইংল্যান্ডের ইতিহাসে ১২১৫ সালে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক সনদ, যা আধুনিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরতে এই ঐতিহাসিক সনদের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতিগোষ্ঠী কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় একটাই—আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ, সবাই এই দেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্রের সমান অংশীদার। এই অভিন্ন পরিচয়ই মানুষকে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে। এই দিনের নায়ক কোনো একক ব্যক্তি নন; বরং দেশপ্রেমিক সিপাহী ও সাধারণ মানুষ, যাঁরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জিয়াউর রহমান যেভাবে মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরে অংশ নিয়েছিলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, দেশের সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নয়, সে দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সংকট ও আন্দোলনে তরুণরা নিজেদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রমাণ দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেন। তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঐতিহাসিক ঘটনায় তরুণ প্রজন্ম দেশের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আপসহীন মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করেই আগামী দিনের পথচলা নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শক্তি জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের স্বার্থনির্ভর দেশে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হওয়া উচিত ৭ নভেম্বরের প্রধান শিক্ষা। রাষ্ট্রের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা সামাজিক বিভাজন যেন দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে বারবার গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিবারই জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর হবে এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। ৭ নভেম্বরের চেতনাকে কেবল অতীতের স্মৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় ঐক্য ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার হিসেবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category