শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নাজমুল ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। তাঁর বাড়িতেই গোপনে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর কয়েক দিন ধরে বাড়িটির ওপর নজরদারি চালান গোয়েন্দারা। প্রাথমিকভাবে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে বাড়ির ভেতরের একটি কক্ষে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে মাদক উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান মজুত ছিল। পরে এসব সামগ্রী জব্দ করে পুলিশ। একই সঙ্গে কারখানাটি পরিচালনার অভিযোগে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল দাবি করেছেন, প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে তিনি মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েন। একপর্যায়ে দ্রুত অর্থ উপার্জনের চিন্তা থেকে মাদক উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন। এ জন্য ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্য খোঁজার পাশাপাশি ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে ইয়াবা তৈরির কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর থেকেই নাজমুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর মাদক গ্রহণের প্রবণতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে নিজেই মাদক উৎপাদনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান বলেন, নাজমুলের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক উপাদান ও ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মজুত ছিল। অভিযান চালিয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, ইয়াবা বাংলাদেশের অন্যতম উদ্বেগজনক মাদকদ্রব্য। এর উৎপাদন, মজুত, পরিবহন ও বিক্রি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সাধারণত ইয়াবা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো গোপন স্থানে সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান মজুত করে থাকে। আবাসিক বাড়িতে এ ধরনের কারখানা গড়ে উঠলে আশপাশের বাসিন্দাদের জন্যও নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
টঙ্গীর এ ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে, মাদক ব্যবসার বিস্তার ঠেকাতে শুধু বিক্রেতা বা সরবরাহকারীদের নয়, গোপনে উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা জরুরি। তবে নাজমুলের দেওয়া প্রেমে ব্যর্থতা ও আর্থিক সংকটের বক্তব্য এখনো পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া দাবি। তদন্তের মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।