বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু। তিনি জানান, যুবলীগের নেতাকর্মীরা যখন মিছিল করছিলেন, তখন ঘটনাস্থলের পাশের লেন দিয়ে পুলিশের একটি পিকআপ যাচ্ছিল। মিছিলের সময় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থেই পিকআপে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।
ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এএসআই আরিফুল ইসলাম আরিফ, গাড়িচালক কনস্টেবল আব্দুল গফুর এবং দুই কনস্টেবল নাসিমুজ্জামান ও মোরশেদুল ইসলাম।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় মিছিলটি বের করেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। একই সময় বিপরীত দিকের পাশের লেন দিয়ে পুলিশের একটি পিকআপ চলছিল। মিছিলকারীরা পুলিশভ্যানটির কাছে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁদের কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের পিকআপ থেকে না নামার জন্য হুমকি দিতে থাকেন। পরিস্থিতির মধ্যে পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের প্রতিরোধ না করে নীরবে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওটি সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা এবং ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের করণীয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্লোজড করার সিদ্ধান্তটি তদন্তের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মিছিলের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়। বুধবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ও শহরের দত্তবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা লিটন শেখ (৪৫), একই মহল্লার ছাত্রলীগের কর্মী ইউনুস আলী নিশাত ওরফে আগুন শেখ (৩৮), চক কোবদাসপাড়া এলাকার চান শেখ (৪৫) এবং সয়দাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কোরবান আলী (৩৩)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার চান শেখ যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে কোরবান আলী সয়দাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে লিটন শেখ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি এবং ইউনুস আলী নিশাত ছাত্রলীগের কর্মী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে এখন দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—মহাসড়কে মিছিল চলাকালে পুলিশের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো কীভাবে এবং দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা যথাযথ ছিল কি না। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।