সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মো. শাহেদ আহম্মদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে পরিবারের সদস্যদের হাতে সরকারি সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে এ পর্যন্ত নিহত ১১ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। বিদেশের মাটিতে প্রাণ হারানো এসব প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ছিলেন শাহেদ আহম্মদ। তাঁর বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন ঘটনায় তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শাহেদের মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাঁকে দেখার সুযোগ পেলেন। একই সঙ্গে বিদেশে সংঘাতের কারণে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ সামনে এসেছে।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নিহত শাহেদের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সংকটের সময় তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে যেসব প্রবাসী নানা ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, তাঁদের অবস্থান ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত জটিলতা মোকাবিলায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়েও দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শামা ওবায়েদ জানান, ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানার জন্য সৌদি সরকারের কাছে রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রায়ের কপি পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের জীবন ও জীবিকার ওপরও পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংকটে পড়া কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।