চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে জাতীয় গ্রিডের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি টাওয়ারের চূড়ায় উঠে পড়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর চেষ্টা চালানোর পর শেষ পর্যন্ত নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন তিনি। পরে তাঁকে ভূজপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার মিরেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় একজন যুবককে অবস্থান করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
খবর পেয়ে ভূজপুর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ওই যুবককে বুঝিয়ে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তবে টাওয়ারটি জাতীয় গ্রিডের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অংশ হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরেরখীল এলাকায় হঠাৎ মো. তানজীবকে টাওয়ারের চূড়ায় দেখা যায়। তিনি কীভাবে সেখানে উঠেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে তাঁকে নামিয়ে আনতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা চালিয়ে যান।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রচেষ্টার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা শেষে বিকেলের দিকে তানজীব নিজেই টাওয়ার থেকে নিচে নেমে আসেন। এরপর পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তানজীব ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সোহরাব সর্দারের ছেলে। ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, তানজীব কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। কয়েক দিন আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবারে এসেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন।
তানজীব নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার তাঁকে খুঁজছিল। এর মধ্যেই ভূজপুরের মিরেরখীল এলাকায় তাঁকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের চূড়ায় পাওয়া যায়। ফলে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।
ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, বর্তমানে তানজীব পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হলেও সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল যুবকটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারে ওঠার কারণে সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।