গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইঁদুর ও উইপোকার কবলে কষ্টে জমানো দুই লাখ টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর বিপাকে পড়েছিলেন ৭২ বছর বয়সী কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। গণমাধ্যমে তার দুর্দশার খবর প্রকাশের পর এবার সেই ক্ষতি পূরণে পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সুমন। তিনি কৃষক তোফাজ্জল হোসেনকে নগদ দুই লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তোফাজ্জল হোসেনের হাতে এই অর্থ তুলে দেন মিজানুর রহমান সুমনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনি।
তোফাজ্জল হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবনের দীর্ঘ সময় অভাব-অনটনের মধ্যেই কেটেছে তার। একসময় জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গিয়ে রিকশা চালাতেন তিনি। অন্যদিকে স্ত্রী ফাতেমা বেগম মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করে সংসারের খরচ জোগাতে স্বামীকে সহযোগিতা করেছেন। দুজনের কষ্টার্জিত আয় থেকে অল্প অল্প করে জমিয়েছিলেন দুই লাখ টাকা।
বয়স বাড়লেও কাজ করার ইচ্ছা হারাননি তোফাজ্জাল। সঞ্চিত টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে আবার কৃষিকাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। নিজের শ্রমে ফসল ফলিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
গত ৯ আগস্ট সকালে জমি বন্ধক নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরে রাখা টাকা বের করতে যান তোফাজ্জাল হোসেন। বাক্স খুলতেই তার চোখে পড়ে ছিন্নভিন্ন নোট। ইঁদুর ও উইপোকা কেটে কেটে নষ্ট করে ফেলেছে দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের পুরো টাকা। মুহূর্তেই যেন ভেঙে পড়ে তার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন।
কষ্টের উপার্জনের টাকা এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তোফাজ্জাল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। জীবনের শেষ সময়ে এসে হাতে থাকা সম্বল হারিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা।
তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, “অনেক কষ্ট করে দুই লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ঢাকায় রিকশা চালিয়েছি, আমার স্ত্রী মানুষের বাড়িতে রান্নার কাজ করেছে। সেই কষ্টের টাকা ইঁদুর ও উইপোকা কেটে নষ্ট করে ফেলেছে। টাকা নষ্ট হওয়ার পর কীভাবে চলব, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম।”
তার এই দুর্দশার খবর ৯ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর মাল্টিমিডিয়ায় এবং ১০ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আসে। সংবাদটি সৌদি আরবপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সুমনের নজরে পড়লে তিনি কৃষক তোফাজ্জালের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর বুধবার নিজের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জনিকে তোফাজ্জাল হোসেনের বাড়িতে পাঠান তিনি। সেখানে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কৃষকের হাতে নগদ দুই লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান জনি বলেন,