কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে শিপন রহমান (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, শিপন মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অনলাইন ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারীর দেওয়ানের খামার এলাকায় বিস্তীর্ণ ধানখেত ও সুপারি বাগান রয়েছে। নির্জন এই এলাকাকে ব্যবহার করে একটি মাদক কারবারি চক্র নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও কেনাবেচা করে আসছিল বলে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। চারপাশে খোলা মাঠ থাকায় দূর থেকেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রটির সদস্যরা পালিয়ে যেত। এ কারণে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এবার ভিন্ন কৌশল নেয় পুলিশ।
পুলিশ সদস্যরা সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে এলাকায় গিয়ে ওই চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরুতে তিনজন মাদকসেবীকে কয়েক পিস ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ৬০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, শিপন রহমান ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একজন পরিচিত মাদক কারবারি ও অনলাইন ক্যাসিনো ডিলার। সম্প্রতি একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে জ্যাকপট পেয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই অর্থের উৎস এবং অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে তার ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
অভিযানে শিপনের সঙ্গে আরও তিনজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও সংশোধিত জুয়া আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, শিপন রহমান মাদক ব্যবসা ও অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। তিন সহযোগীসহ তাকে মাদক ও ক্যাসিনো-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপজেলার মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে।
পুলিশের এই অভিযানে নির্জন ধানখেত ও সুপারি বাগানকে ব্যবহার করে মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া কার্যক্রমের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এখন তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে মাদক ও অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে আর কারা জড়িত, সে তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।