‘মক্কা চুক্তি’কে মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার একটি যৌথ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। এ চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
রুমিন ফারহানা তাঁর প্রশ্নে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা এবং এতে বাংলাদেশের কী ধরনের সুবিধা হতে পারে, তা জানতে চান। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চুক্তিটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। তবে বাংলাদেশ এতে যুক্ত হবে কি না, সেটি একতরফাভাবে নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। চুক্তির অংশীদার দেশগুলোর সিদ্ধান্ত ও আগ্রহের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, প্রস্তাব পাওয়ার পরই চুক্তির শর্ত, বাংলাদেশের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটির বিভিন্ন খুঁটিনাটি এবং এর ভালো-মন্দ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এখনো আসেনি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আপাতত বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে চুক্তিটির নিরাপত্তাগত দিকও উঠে আসে। তাঁর ভাষ্য, ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের সুরক্ষার একটি যৌথ ব্যবস্থা। তাই এটিকে মুসলিম বিশ্বের অভ্যন্তরীণ একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ফলে এ নিয়ে বাইরের কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্ত, জাতীয় স্বার্থ এবং সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যেও আপাতত সেই সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সিদ্ধান্তের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি।
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের ফলে ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এতে যুক্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ এবং চুক্তির বিস্তারিত শর্ত পর্যালোচনার ওপর।