• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৮ অপরাহ্ন

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

newsline24 / ১১ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

অবরোধস্থলে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে।

এর আগে রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালায়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাশের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে শেষবারের মতো তাকে দেখতে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। শোকের আবহ নেমে আসে পুরো এলাকায়।

অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ তার মা ড. নাহিদা বেগম। যে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই সন্তানকেই ফিরতে হয়েছে নিথর দেহে।

অপ্রতিমের মৃত্যু ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে হত্যার রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিই এখন তাদের প্রধান দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category