পাবনার দোগাছীতে স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যার আগে শিশুটিকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঘরের ভেতর ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি নিখোঁজ কলিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খোঁজাখুঁজিতেও অংশ নিয়েছিলেন অভিযুক্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
পুলিশ সুপার জানান, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর ঘটনাটি তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামানিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোস্তফার বিরুদ্ধে নারীদের ছবি ভিন্নভাবে ধারণ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। কলি তার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তারও একাধিক ছবি মোস্তফার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন কলিকে ঘরে নিয়ে যান মোস্তফা ও ইয়াছিন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করার পর দুজন মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহটি বস্তাবন্দি করে ওই ঘরেই রেখে দেন।
কলি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও তার সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও হয়। পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে ঘরে থাকা মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তরা সেটি বাইরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ বাইরে নেওয়ার সময় একটি কুকুর তাদের তাড়া করলে তারা পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি মরদেহটি ফেলে দেন। পরে যে ঘরে মরদেহ রাখা হয়েছিল, সেটি স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
কলি নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির অংশ হিসেবে ওই ঘরেও ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় ঘরে স্যাভলনের গন্ধ এবং মোস্তফার আচরণ কর্মকর্তাদের সন্দেহের কারণ হয়। এরপর মোস্তফা ও ইয়াছিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
এর আগে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া এলাকায় তার বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটির নিখোঁজ হওয়া এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এখন পুলিশের তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত করা। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।