• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন

বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা, নদীতীরে রক্ত

newsline24 / ২০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা, নদীতীরে রক্ত
বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা, নদীতীরে রক্ত

ঢাকার নবাবগঞ্জে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই কালিগঙ্গা নদীর তীরে রক্তের দাগ পাওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, এখনই ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে নিশ্চিত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে নবাবগঞ্জের খতিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে বের হন সেন্টু। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেন, হয়তো কোনো কাজে বাইরে গেছেন। কিন্তু রাত বাড়লেও ফিরে না আসায় রাত ১২টার দিকে স্বজনরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি দ্রুত নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে সেন্টুর সন্ধান করতে থাকেন।

মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছাকাছি কালিগঙ্গা নদীর তীরে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ওই স্থান ঘিরে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ, সেন্টুকে কেউ হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিতে পারে।

সন্ধান চালাতে ঢাকার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। তারা কালিগঙ্গা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। তবে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সেন্টুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নদীর তীরে রক্তমাখা স্থানটিও পুলিশ ঘিরে রেখেছে।

নিখোঁজ সেন্টুর ভাই বিপ্লব হোসেন বলেন, তার ভাইকে কেউ হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে দুজনকে আটক করেছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ বলেন, সেন্টুর সন্ধানে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তবে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করতে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও সেন্টুর অবস্থান সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নদীতে তল্লাশি এবং ঘটনাস্থল ঘিরে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সেন্টুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রক্তের দাগ পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হলেও সেটি সেন্টুরই কি না, কিংবা এর সঙ্গে তার নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, তদন্ত এগোলেই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category