• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

অক্ষয়ের মিমে ট্রাম্পকে ইরানের কূটনৈতিক খোঁচা

newsline24 / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
অক্ষয়ের মিমে ট্রাম্পকে ইরানের কূটনৈতিক খোঁচা
অক্ষয়ের মিমে ট্রাম্পকে ইরানের কূটনৈতিক খোঁচা

বলিউড তারকা অক্ষয় কুমারের জনপ্রিয় মিম ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করেছে তিউনিসিয়ায় ইরানি দূতাবাস। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তিউনিসিয়ায় ইরানি দূতাবাসের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে অক্ষয় কুমারের বিভিন্ন কমেডি সিনেমার মজার অভিব্যক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি মিম পোস্ট করা হয়। মিমটির ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘সাবমেরিন আটক। তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি। নির্বাচনও সামনে। কেমন চলছে, ট্রাম্প?’

মিমের বার্তায় একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কাছে তাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন আটক করেছিল। সেই দাবির পরই তিউনিসিয়ায় ইরানি দূতাবাসের পক্ষ থেকে অক্ষয় কুমারের মজার অভিব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কটাক্ষপূর্ণ পোস্টটি দেওয়া হয়।

মিমে ‘সাবমেরিন আটক’, জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়কে একই বার্তায় যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানি দূতাবাস মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একসঙ্গে তুলে ধরে ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করেছে।

পোস্টটি এক্সে প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে ইরানি দূতাবাসের এই কৌশলকে মজার বলে মন্তব্য করেন। কেউ কেউ আবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যঙ্গ করতে ভারতীয় সিনেমার দৃশ্য বা মিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলোর আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও মুম্বাইয়ে ইরানের কনস্যুলেট ‘ধামাল’ সিনেমার একটি দৃশ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যঙ্গ করেছিল। ওই দৃশ্যে রিতেশ দেশমুখের চরিত্রকে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে পালিয়ে একটি দেয়ালহীন বাড়ির দরজার আড়ালে লুকাতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের তাড়া খাওয়া অবস্থায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পোস্টের সঙ্গে লেখা হয়েছিল, ‘ভারতের মিম সর্বসেরা।’

এবারও ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ অক্ষয় কুমারের হাস্যরসাত্মক অভিব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বলিউডের কমেডি দৃশ্যকে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করায় পোস্টটি আরও সহজে সাধারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজরে এসেছে।

ইরানি দূতাবাসের সাম্প্রতিক পোস্ট ঘিরে মজার মন্তব্যও করেছেন অনেকে। এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছেন, ট্রাম্প যেন জানতে না পারেন এটি ভারতীয় মিম; তাহলে ভারতকেও আবার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে। আরেকজন মন্তব্য করেন, এ ধরনের মিম শুধু ‘ইরান ইন ইন্ডিয়া’ অ্যাকাউন্টেই ব্যবহার করা উচিত। অন্য একজন অক্ষয় কুমারকে মজা করে ‘ভূরাজনৈতিক সম্পদ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

কূটনীতিতে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে রাষ্ট্রীয় বা কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জনপ্রিয় সিনেমার চরিত্র, মিম ও পপ সংস্কৃতির উপাদান ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া তুলনামূলকভাবে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের একটি ধরন। ইরানের সাম্প্রতিক পোস্টটিও সেই ধারারই একটি উদাহরণ, যেখানে সামরিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মতো গুরুতর বিষয়কে বলিউডের হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই প্রেক্ষাপটে তেলের দাম নিয়ে ইরানি দূতাবাসের কটাক্ষও মিমটির রাজনৈতিক বার্তাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

অক্ষয় কুমারের মুখভঙ্গিকে কেন্দ্র করে তৈরি কয়েক সেকেন্ডের মজার একটি মিম তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে ঘিরে কূটনৈতিক ব্যঙ্গের হাতিয়ার। আর বলিউডের জনপ্রিয় সংস্কৃতিকে এমন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বার্তায় ব্যবহার করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি পেয়েছে বাড়তি মনোযোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category