• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

দুই মামলায় হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

newsline24 / ২২ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
দুই মামলায় হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
দুই মামলায় হারুনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে করা দুই মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁর ভাই এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদ স্থানান্তর এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সজেকা, ঢাকা-১-এর মামলা নম্বর ১৬-তে হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দায়ের করা এ মামলার তদন্তে তাঁর মোট ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে আসে। এসব সম্পদের বিপরীতে ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ ও জ্ঞাত আয়ের পরিমাণ এক কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

তদন্ত শেষে কমিশন ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার সম্পদকে হারুনের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ তাঁর ঘোষিত ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে তদন্তে গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, একই বিষয়ে করা ১৮ নম্বর মামলায় হারুন অর রশীদ ও তাঁর ভাই এ বি এম শাহারিয়ারকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় শাহারিয়ারের নামে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

তদন্তে হারুন অর রশীদের কাছ থেকে হেবা সূত্রে শাহারিয়ারের এক হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পদ হস্তান্তর এবং ওই সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনাও তদন্তে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অপরাধলব্ধ সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন, সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য, আয়কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়। এসব নথি ও আর্থিক তথ্য যাচাই-বাছাই করেই চার্জশিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে একই ধারাগুলোর পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির এই ধারা সাধারণত কোনো অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

দুদকের তদন্তে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি সম্পদের উৎস, মালিকানা পরিবর্তন এবং অর্থের স্থানান্তরসংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে মামলা দুটিতে শুধু আয়বহির্ভূত সম্পদ নয়, সেই সম্পদের উৎস ও তা ব্যবহারের পদ্ধতিও তদন্তের আওতায় এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category