ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন দায়িত্ব পেলেন বিএনপির নেতা ও সরকারদলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে নতুন পাঁচটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার পর দুলুকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে সংসদ।
সংসদে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি নতুন পাঁচটি স্থায়ী কমিটি গঠন এবং দুটি কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো পাস হয়। এর ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে গঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা বেড়ে ৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া দুলু নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দুলু বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে তার কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, নীতি, প্রকল্প ও কর্মসূচির ওপর সংসদীয় পর্যবেক্ষণ ও তদারকিতে কমিটিকে নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মূলত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুপারিশ এবং সংসদীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। ফলে কোনো মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সংসদ সদস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও সংসদীয় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।
সংবিধান ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সাধারণত নিজ নিজ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন। তবে কমিটির কাজের ক্ষেত্রে সংসদীয় পর্যালোচনা ও তদারকির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির পদটি বিরোধী দলের জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব পেলেন দুলু। নতুন দায়িত্বে তার কমিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।