• রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪২ অপরাহ্ন

শ্বশুরকে হত্যার ১৭ ঘণ্টা পর থানায় জামাই

newsline24 / ৭ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
শ্বশুরকে হত্যার ১৭ ঘণ্টা পর থানায় জামাই
শ্বশুরকে হত্যার ১৭ ঘণ্টা পর থানায় জামাই

গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেন মোজা (৩২)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে কালীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিক অভিযুক্তের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার জামালপুর বাজারের শীতলক্ষ্যা নদীর ঘাট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত মজিদ মোড়লের বয়স ৬৫ বছর। তিনি স্থানীয় আলফু মোড়লের ছেলে। জামালপুর বাজারে তিনি কলা বিক্রি করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। কয়েক বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ের সঙ্গে উত্তর জামালপুর গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে মোজাম্মেল হোসেন মোজার বিয়ে হয়। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে প্রায় সাত দিন আগে মজিদের মেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য, মেয়েকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দিতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন মজিদ মোড়ল। তিনি এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জামাই মোজাম্মেলকে তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

এরপর শুক্রবার বিকেলে জামালপুর বাজারে কলা বিক্রি করছিলেন মজিদ মোড়ল। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় মোজাম্মেল সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মজিদকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় নোভা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর মোজাম্মেল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে তিনি নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর ছোট বোনের স্বামী। পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁর বোন সাত দিন আগে বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। পরে বাবা এলাকার লোকজন নিয়ে জামাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোজাম্মেল তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলমও ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মেয়ের জামাই তাঁর শ্বশুরকে হত্যা করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিযুক্ত মোজাম্মেল মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

শ্বশুরকে হত্যার পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর থানায় এসে আত্মসমর্পণের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category