বিএনপির নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্পর্কে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, রুমিন ফারহানার বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বয়ানের ছায়া দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্য, অতীতের রাজনৈতিক অবস্থান এবং জাতীয় সংসদে বিভিন্ন দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেন।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে লেখেন, রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের মিল রয়েছে। এমনকি তিনি রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্টের তুলনাও করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে রুমিন ফারহানা বিবেচিত হতে পারেন।
পোস্টে রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ। তাঁর ভাষ্য, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার আগে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সেসব বক্তব্যের কিছু অংশই তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন।
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্য তাঁর অতীত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পক্ষ থেকে রুমিনের বক্তব্যকে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর প্রশ্ন, যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা এখন করা হচ্ছে, সেই সংস্কৃতির সূচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজেদের ভূমিকা ছিল কি না।
জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন রাশেদ। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের সময় সংসদে জামায়াতের ৯০ জন সংসদ সদস্যের হট্টগোলের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন। একই পোস্টে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদ ওই সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন। ওই সরকারে জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী ছিলেন—এ বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানা, জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর অবস্থানকে একই রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, তাঁদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বয়ানের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে।
পোস্টের শেষাংশে রুমিন ফারহানার অতীতের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। রাশেদ প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে যে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন, সেটিও কি সবাই ভুলে গেছে?
রাশেদ খাঁনের এই বক্তব্য মূলত রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ও সংসদীয় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর ব্যক্তিগত সমালোচনা। তাঁর পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগ ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।