বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসা থেকে রুনা আক্তার (২৩) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী শুভ বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে ঢাকায় কর্মরত বলে জানা গেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়ক নতুন রাস্তা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে রুনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর জিয়া সড়কের ওই বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন রুনা আক্তার। বাড়ির মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, রুনা নিজেই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে ওঠার পর থেকে তাঁর স্বামী শুভকে একবারও ওই বাসায় আসতে দেখা যায়নি।
বুধবার রাতে হঠাৎ শুভ বাড়ির মালিককে ফোন করে রুনার খোঁজ নিতে বলেন। রুনার কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে প্রয়োজন হলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে দেখার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
এরপর বাড়ির মালিক ও আশপাশের লোকজন রুনাকে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রুনার মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, রুনা ও তাঁর স্বামী শুভ পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন ছিলেন।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সিআইডি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
রুনার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।