• শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

পদ্মায় পানি বাড়তেই দৌলতপুরে ডাকাতির আতঙ্ক

newsline24 / ১৮ Time View
Update : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
পদ্মায় পানি বাড়তেই দৌলতপুরে ডাকাতির আতঙ্ক
পদ্মায় পানি বাড়তেই দৌলতপুরে ডাকাতির আতঙ্ক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ডাকাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরের মতো এবারও নদীর পানি বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের বেলায় বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তদের কয়েকজনকে দিনের বেলায় এলাকায় প্রকাশ্যেই চলাফেরা করতে দেখা যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে নদী ও চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা রাতে তুলনামূলক দুর্বল থাকায় এসব এলাকায় আতঙ্ক বেশি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাকাতির সময় কাউকে চক্রের সদস্যদের পরিচয় বা চেহারা চিনে ফেলতে দেখা গেলে পরে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য দিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পরিবারের ছোট শিশুদের ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে নীরব থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। কোনো পরিবারে তরুণী বা যুবতী থাকলে তাঁদের নিয়েও আপত্তিকর ও ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কারণে অনেক পরিবার আতঙ্কে থাকলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না।

অভিযুক্তদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে

স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতচক্রের কয়েকজন সদস্যের নাম-ঠিকানা এবং অতীতের বিভিন্ন অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখা, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

তবে তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাঁদের অনেকে অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক। তাঁদের ভাষায়, ‘গ্রেপ্তার হলেও আবার ফিরে আসে’—এই ধারণা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ডাকাতচক্রের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ডাকাতচক্রের কয়েকজন সদস্য ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। ডাকাতির পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে স্থানীয়দের অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না—আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

পানি বাড়লে বাড়ে ঝুঁকি

পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতপুরের চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। অনেক এলাকায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে এবং রাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ অপরাধীরা তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তাঁদের প্রশ্ন, একই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ, তথ্য ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যদি অভিযুক্তরা আবার এলাকায় ফিরে এসে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ডাকাতচক্রের কথিত তৎপরতা, স্থানীয়দের প্রাণনাশের হুমকি, অভিযুক্তদের অতীত অপরাধ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকলটি গ্রহণ করেননি। একই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন)-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন ধরেননি।

স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালানোর পাশাপাশি ডাকাতচক্রের মূল হোতা, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে চরাঞ্চলে রাতের নিরাপত্তা জোরদার করে সাধারণ মানুষের ভয় কাটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category