হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে দুই যুবককে আটকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার আনোয়ারপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরে এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
আহতদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত সজল মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নোয়াগাঁও গ্রামের দুই যুবক আনোয়ারপুর এলাকায় যান। এ সময় তাঁদের মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আনোয়ারপুর গ্রামের এক ব্যক্তি আটক করেন। পরে তাঁদের মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ সেখানে যায়। পরে পুলিশ ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তাঁদের আটকের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শনিবার সকালে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ফজল মিয়া (২৫), আলমগীর (৩৬), মো. সত্তর মিয়া (৬২), জয়নুদ্দিন (৩৮), জিকির মিয়া (৪১), মফিল মিয়া (৫০), সজল হক (৪৮), শিপন (১৯) ও সজল মিয়া (৩৫) রয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিকভাবে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সজল মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিলেটে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো সংঘাত যাতে না ঘটে, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল। এর মধ্যে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুত দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ঘটনা সংঘবদ্ধ বিরোধে রূপ নেয়। তবে মাদক বিক্রির অভিযোগের সত্যতা এবং সংঘর্ষের সময় কারা কী ধরনের ভূমিকা রেখেছেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।