• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তাহসিফ হত্যা: দিশাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তারেক রহমানের সঙ্গে লিউ হাইশিংয়ের বৈঠক ডিসেম্বরে নির্ধারিত হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন, কার্যকর জানুয়ারি থেকে সাভারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রণক্ষেত্র, পুলিশের গাড়িতে আগুন মহাখালী থেকে আটক শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, গ্রামে শোকের মাতম অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-রিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক বেশি আওয়ামী লীগকে আগলে রাখছে বিএনপি, নাহিদ ইসলামের অভিযোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক বেশি

newsline24 / ১৪ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক বেশি
দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক বেশি

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তুলনায় দেশে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২ হাজার ৬০ টাকা। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলোতে সমপরিমাণ এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৭২ টাকা থেকে ১ হাজার ৫৮৩ টাকার মধ্যে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করে। নতুন এই মূল্য কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের এলপিজির দামের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে ১২ কেজি এলপিজির দাম পাকিস্তানের তুলনায় ৪৭৭ টাকা বেশি। শ্রীলঙ্কার তুলনায় ব্যবধান ৪৯৩ টাকা, নেপালের তুলনায় ৬৩৪ টাকা এবং ভারতের কলকাতার তুলনায় প্রায় ৯৮৮ টাকা।

দেশভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের প্রচলিত ওজন আলাদা হওয়ায় সরাসরি দাম তুলনা করা সম্ভব নয়। ভারতে ও নেপালে সাধারণত ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার বেশি ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানে প্রচলিত সিলিন্ডারের ওজন ১১ দশমিক ৮ কেজি, শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ১২ কেজি এবং বাংলাদেশে ১২ কেজি। এ কারণে তুলনাটি করা হয়েছে প্রতি কেজি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করে।

ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজধানী দিল্লিতে ১৪ দশমিক ২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ রুপি। কলকাতায় একই ওজনের সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ রুপি। বিনিময় হার অনুযায়ী, কলকাতায় প্রতি কেজি এলপিজির দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৭১৮ ডলার। সে হিসাবে ১২ কেজি গ্যাসের মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৭২ টাকা।

ভারতে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এলপিজি ব্যবহারে ভর্তুকির ব্যবস্থাও রয়েছে। যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতিটি সিলিন্ডারে ৩০০ রুপি ভর্তুকি পান। তবে একজন গ্রাহক বছরে সর্বোচ্চ চারবার এই সুবিধা নিতে পারেন। ভর্তুকি পেতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হয়। ফলে দেশটিতে এলপিজি ব্যবহারের ব্যয় কমাতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

নেপালেও ১৪ দশমিক ২ কেজির সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান নেপাল অয়েল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, এই সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ নেপালি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ কেজি গ্যাসের সমপরিমাণ মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪২৬ টাকা।

শ্রীলঙ্কার সরকারি প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সাড়ে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬৫ রুপি। একই অনুপাতে ১২ কেজি গ্যাসের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৬৭ টাকা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (ওজিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১১ দশমিক ৮ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার ৪৭০ পাকিস্তানি রুপি। ১২ কেজি গ্যাসের সমপরিমাণ হিসাব করলে এর দাম দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫৮৩ টাকা।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের ব্যবধান

দেশ প্রচলিত সিলিন্ডারের ওজন ১২ কেজি গ্যাসের সমপরিমাণ দাম
বাংলাদেশ ১২ কেজি ২,০৬০ টাকা
পাকিস্তান ১১.৮ কেজি ১,৫৮৩ টাকা
শ্রীলঙ্কা ১২.৫ কেজি ১,৫৬৭ টাকা
নেপাল ১৪.২ কেজি ১,৪২৬ টাকা
ভারত (কলকাতা) ১৪.২ কেজি ১,০৭২ টাকা

তবে এসব দেশের সরকারি বা ঘোষিত মূল্যই সব ক্ষেত্রে ভোক্তাদের প্রকৃত ক্রয়মূল্য নয়। চাহিদা বেড়ে গেলে কিংবা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয় বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও সরকারি মূল্য নির্ধারণের পর অনেক সময় বিভিন্ন এলাকায় বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ সামনে আসে। ফলে ঘোষিত দামের পাশাপাশি বাজারে প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।

আমদানিনির্ভরতা ও পরিবহন ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে এলপিজির দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ার পেছনে আমদানিনির্ভরতা, পরিবহন ব্যয় এবং আমদানিকারকদের প্রিমিয়ামকে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের এলপিজি বাজারের বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয়—সবকিছুই শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাজারমূল্যে প্রভাব ফেলে।

বিইআরসির নভেম্বর মাসের মূল্য নির্ধারণের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ও আমদানিকারকের প্রিমিয়াম বাবদ ২৫০ ডলার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের ব্যয়ের নির্ভরযোগ্য তুলনামূলক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু এই ব্যয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি হওয়ার পূর্ণ কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

এলপিজির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের অনেক পরিবার রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সিলিন্ডারের দাম বাড়লে মাসিক সংসার খরচও বেড়ে যায়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে তখন অন্যান্য খাতে ব্যয় কমিয়ে জ্বালানির বাড়তি খরচ সামলাতে হয়।

এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এলপিজির দাম কেন এত বেশি, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ চেইনের প্রতিটি পর্যায়ের ব্যয় স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পৌঁছানো নিশ্চিত করা গেলে বাড়তি দামের চাপ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category