• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তাহসিফ হত্যা: দিশাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠালেন আদালত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে তারেক রহমানের সঙ্গে লিউ হাইশিংয়ের বৈঠক ডিসেম্বরে নির্ধারিত হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন, কার্যকর জানুয়ারি থেকে সাভারে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রণক্ষেত্র, পুলিশের গাড়িতে আগুন মহাখালী থেকে আটক শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে আহত তৌফিকের মৃত্যু, গ্রামে শোকের মাতম অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-রিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ জনের দক্ষিণ এশিয়ায় এলপিজির দামে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের চেয়ে অনেক বেশি আওয়ামী লীগকে আগলে রাখছে বিএনপি, নাহিদ ইসলামের অভিযোগ

অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

newsline24 / ১১ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, একই সঙ্গে বৈধ যাতায়াত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অভিবাসন কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তোলা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একটি বহুমাত্রিক বিষয়। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন, যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তিনি জানান, সরকার প্রণীত ‘জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১’ এবং ‘পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১’-এর আলোকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে। বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং অভিবাসন তল্লাশিচৌকিগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন যেন কেবল প্রযুক্তি ও নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এ ব্যবস্থাকে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানুষের নিরাপত্তার প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, পরিচয় জালিয়াতি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একটি মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একক দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, নিরাপত্তা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং বৈধ চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর প্রতি প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ বিশ্বায়নের পথ সুগম করতেও ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আইওএমের বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ধরন, অভিবাসনপ্রবাহ এবং সীমান্ত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ায় ব্যবস্থাপনাকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কারিগরি দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

কৌশলগত রূপরেখায় চারটি অগ্রাধিকার

আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখায় বাংলাদেশের অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে চারটি প্রধান সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—

1. সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা: সীমান্ত নিরাপত্তা, বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।

2. ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান: প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা।

3. প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি: সীমান্ত ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি জ্ঞান এবং পেশাগত সক্ষমতা উন্নত করা।

4. অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন: নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং যাত্রীসেবা আধুনিকায়ন করা।

এই কৌশলগত রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সরকারের অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণের লক্ষ্য রয়েছে।

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানব পাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে, অন্যদিকে বৈধ অভিবাসন ও বাণিজ্য কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category