• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি-চন্দ্রার সব পোশাক কারখানা বন্ধ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: রিজভী টিকটক কমেন্টের জেরে সালিশের পরই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ, আহত ২০ রবিবারই আসছে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ডের গেজেট উপনির্বাচনের ফলেই বিরোধীদের জনপ্রিয়তা কমার প্রমাণ মিলেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সৌদির তেলাঞ্চল ও মদিনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা প্রেমের ব্যর্থতা থেকে ইয়াবা কারখানা, বাড়িতেই মাদক উৎপাদন! নয়টি গুলির দাবি ভুয়া, হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের ছয় কর্মকর্তার কর্মস্থলে রদবদল, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারণ পাসের হারে ছাত্রীদের বড় ব্যবধান, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছাত্ররা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই: রিজভী

newsline24 / ৬ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই রিজভী
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প নেই রিজভী

জুলাই জাতীয় সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে যেসব বিষয়ে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেগুলো জাতীয় সংসদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু বিরোধী দল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বরেণ্য রাজনীতিবিদ মরহুম শামসুল হুদার স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে এসে আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাজপথে কর্মসূচি দিয়ে দাবি আদায়ের চেষ্টা না করে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রিজভী বলেন, জুলাই সনদের সব প্রস্তাব একই পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের কোনো ধারা বা বিধানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সেগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ সাংবিধানিক সংশোধন করতে হবে। আর যেসব বিষয় সাধারণ আইনের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব, সেগুলো জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে এবং সময়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন পর্যায়ে এতে সংশোধনী আনা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন কোনো ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। জুলাই সনদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের পাশাপাশি বিদেশ সফরের মাধ্যমে বিনিয়োগ, ঋণ, অনুদান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, চীন ও জাপান সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে।

রিজভী জানান, জাপান সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টয়োটার প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন এবং গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশে এ ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ সরবরাহ, পরিবহন ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে

সরকারের ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর হাতে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারলে তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, দরিদ্র পরিবারের হাতে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পৌঁছানো গেলে অনেকেই হাঁস-মুরগি পালন কিংবা ছোট পরিসরে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারবেন। এতে পরিবারগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং দারিদ্র্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষক কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা করা গেলে কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের জন্য আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করলেন রিজভী

দেশের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের জন্য বিএনপি সরকার কিংবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কীভাবে দায়ী হতে পারেন? তাঁর ভাষ্য, বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হলেও সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ধরে রাখা সহজ হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সমালোচনার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে কিংবা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। বিএনপি সত্য, ন্যায় ও জনগণের কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনা করছেন। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ

স্মরণসভায় মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন আদর্শবান, সাহসী ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় আদর্শ ও অবস্থানের প্রতি অবিচল ছিলেন।

রিজভী বলেন, দলের দুঃসময়ে যেসব নেতাকর্মী সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। শামসুল হুদার মতো নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের রাজনৈতিক ভূমিকা বিএনপি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। অনুষ্ঠানে মরহুম শামসুল হুদার রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দলের প্রতি তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category